চলতি বছর (২০২০) এর ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৩ লাখ মানুষ। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৭ লাখ এক হাজার ৯৩০ জন নারী, যা মোট বন্যা আক্রান্তের ৫২ শতাংশ। এ ছাড়া করোনা এবং ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের দ্বৈত আঘাত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নারীদের আরো ভোগান্তিতে ফেলেছে। আম্ফানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ১৯টি জেলায় আক্রান্ত ২৬ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার গর্ভবতীসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় আট লাখ নারী।

এ ছাড়া দেশের যেকোনো দুর্যোগে নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি বিপদের শিকার হন। গতকাল বৃহস্পতিবার পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘দুর্যোগে নারীর বিপদাপন্নতা : অশ্রুত আখ্যান’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ইউএনএফপিএর সহায়তায় দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থায় নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর কৌশল অনুসন্ধানের লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়।

ওয়েবিনারে সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আতিকুল হক বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী, শিশু এবং ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কিভাবে যুক্ত করা যায় সেটি নিয়ে সরকার কাজ করছে। চলতি বছরে আমরা করোনার পাশাপাশি চার-চারবার বন্যা মোকাবেলা করেছি। করোনার কারণে আশ্রয়প্রার্থীদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আশ্রয় প্রদানের ক্ষেত্রে এবার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে।’

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুন নাহার বলেন, ‘দুর্যোগে আলাদা ব্যবস্থা না থাকলেও বিভিন্ন প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা নারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শিক্ষা প্রদান করে থাকি।’

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে। আশ্রয়কেন্দ্রেও নারীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে।

ইউএনএফপিএ প্রগ্রাম স্পেশালিস্ট শামিমা পারভীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা এবং গণমাধ্যমকর্মী মানসুরা হোসাইন এ সময় বক্তব্য দেন।

আপনার মতামত লিখুন :