গত (৬ সেপ্টেম্বর) রবিবার রাতে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের খামার ধনারুহা গ্রামে স্ত্রী রুমি বেগমকে (২৮) শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বামী জামিরুল ইসলাম (৩২) ঘরের ধর্নার সাথে নিজের স্ত্রীর ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

জানা যায়, জামিরুল ইসলাম ওই গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে ও রুমী বেগম জামিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং একই উপজেলার মুন্সিরহাট ইটাকুরি গ্রামের ওমর হোসেনের মেয়ে। দু’জনের রহস্যজনক এই মৃত্যু নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।

বাড়ির লোকজন থেকে জানা যায়, জামিরুল পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। প্রায় ১১ বছর আগে জামিরুল ইসলাম ও রুমি বেগমের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে, লিমন(১০) ও ইয়াবিন(৩)।

গতকাল, রবিবার সকালে জামিরুল ইসলাম স্ত্রী ও ছেলেমেয়েসহ পার্শ্ববর্তী সদর উপজেলার বোয়ালী গ্রামে তার ভাগ্নীর বিয়েতে অংশ নেন। পরে রাত ৯টার দিকে তারা বাড়িতে আসেন। রাতে খাবার খেয়ে স্বাভাবিকভাবে তারা ঘরে ঘুমাতে যান। সোমবার সকালে ওই ঘর থেকে তাদের ছেলের কান্না শুনে বাড়ির লোকজন দরজা ধাক্কাধাক্কি করলে জামিরুলের বড় ছেলে লিমন দরজা খুলে দেয়। এ সময় বাড়ির লোকজন ঘরে ঢুকে জামিরুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং রুমি বেগমকে মেঝেতে গলায় ওড়না পেঁচানো মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

মুক্তিনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আরশাদ আজিজ জানান, জামিরুল ও তার স্ত্রীর মধ্যে আগে থেকে পারিবারিক কোনো সমস্যা ছিল না। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে রবিবার রাতে জামিরুল ও তার স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। সোমবার সকালে আশপাশের লোকজন তাদের মৃতদেহ দেখতে পায় ঘরে।

খবর পেয়ে দুপুরে তাদের দু’জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় বলে জানান সাঘাটা থানার ওসি বেলাল হোসেন। শ্বাসরোধে রুমি বেগমের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে দু’জনের কাউকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন বিষয়টি পরিষ্কার হবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর।

আপনার মতামত লিখুন :