নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা মুহম্মদ শাখাওয়াত হোসেন ভারতে মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তামিলনাড়ুর ভেলোরে আটকা পড়েছেন। তার সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সকল অর্থ শেষ। দেশ থেকে টাকা নেওয়ার ব্যবস্থাও জটিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচলও বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে শাখাওয়াত হোসেনের মতো অনেকেই দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রতিবেশী দেশটিতে বসে দিন গুনছেন। আবার ভারতে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া অনেকেও বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় যেতে পারছেন না। ভারতের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থীরও একই অবস্থা।

করোনা পরিস্থিতির মাঝেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলার বিশেষ ফ্লাইটে গত কয়েক মাসে কিছু রোগী দেশে ফিরেছেন। কিন্তু যাঁদের ওই সময় চিকিৎসা শেষ হয়নি তাঁরা দেশে ফেরার সুযোগ নিতে পারেননি। লকডাউনের কারণে ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য গত ৮ জুলাই চেন্নাই-ঢাকা রুটে সর্বশেষ একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালিত হয়। সীমান্তপথে ফেরার ব্যাপারেও ছাড় দিয়েছে ভারত। পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহর থেকে অনেকে ফিরেছেন। তবে দ্রুত ফ্লাইট চালু না হলে ভারতের বড় শহরগুলোতে আটকে পড়াদের সংকট বাড়বে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা গত মাসে ঢাকা সফরকালে এয়ার বাবল চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাসও গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন। প্রতিমন্ত্রীও একমত পোষণ করে বলেন, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারতের সঙ্গে ‘এয়ার বাবল’ ফ্লাইট চালু করতে বাংলাদেশ সম্মত। এ বিষয়ে আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্তের পর চুক্তির বিষয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচক সূত্র জানায়, চলতি মাসের মধ্যে এই ফ্লাইট চালু করতে ভারতের দেওয়া শর্তগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। নতুন ভিসায় ভ্রমণ শর্তের সুরাহা হলেই ‘এয়ার বাবল ফ্লাইট’ চলাচলের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসবে দুই দেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। এরই মধ্যে ভারতের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বেবিচক।

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান গতকাল রবিবার বলেন, ‘ভারতের সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের চাহিদার কথা জানিয়েছি। এখন তাদের কাছ থেকে উত্তর পেলে এটা নিয়ে একটি চুক্তি হবে। তারপর ফ্লাইট চালু হবে। এয়ার বাবলের প্রধান বিষয় হলো একই শর্তে দুই দেশের বিমান চলাচল করবে। বাংলাদেশ থেকে সপ্তাহে ৫০০ যাত্রী গেলে তাদের এয়ারলাইনসে সমসংখ্যক যাত্রী আসবেন। এই যাত্রীরা বাংলাদেশ থেকে ভারত, ভারত থেকে বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো গন্তব্যে যেতে পারবেন না।’

মফিদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশের যাঁরা ভিসাধারী আছেন, ভারত তাঁদের ভিসা বাতিল করে দিয়েছে। তাঁদের নতুন করে ভিসা নিতে হলে কতজন যাত্রী ভিসা পাবেন তার ওপর নির্ভর করবে আমাদের কতজন ভারতে যেতে পারছেন। এই বিষয়গুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেখার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি হলে শিগগিরই এয়ার বাবল চালু করা যাবে বলে আশা করছি।’

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত মার্চে কভিড মহামারি শুরুর পরপরই ভারত সারা বিশ্বে এর আগে ইস্যু করা বেশির ভাগ ক্যাটাগরির ভিসা স্থগিত করে। বর্তমানে অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারতীয় ভিসা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। কেবল জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে ফ্লাইটযোগে ভারতে যাওয়ার জন্য কিছু ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে।

জানা যায়, বাংলাদেশের সঙ্গে এয়ার বাবল চালু হলে মেডিক্যাল, বিজনেস ও অফিশিয়াল ক্যাটাগরিতে ভারতে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তখন আরো বেশি মেডিক্যাল ভিসা ইস্যু করা হতে পারে। তবে আপাতত বন্ধ থাকবে টুরিস্ট ভিসা।

আপনার মতামত লিখুন :