ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েটির পরিবারকেই উল্টো লাখ টাকা জরিমানা

Yousuf AsrafYousuf Asraf
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:২৯ PM, ২২ জুলাই ২০২০

ধর্ষণের শিকার হয়ে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় তার পরিবার এমনিতেই বিপাকে। তার ওপর গ্রাম্য সালিসে মেয়েটির পরিবারকেই দোষী সাব্যস্ত করে, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন, স্থানীয় ‘আওয়ামী লীগ’ নেতারা।

এদিকে কথিত সেই জরিমানার টাকা দিতে না পারায়, গতকাল সোমবার পরিবারটির সাইকেল, ভ্যান, গরু, ছাগলসহ বেশ কিছু জিনিস বাড়ি থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে অবশ্য পুলিশ গিয়ে বেশির ভাগ জিনিস পত্র উদ্ধার করেছে। মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার ‘নহাটা ইউনিয়নে’ এই ঘটনাটি ঘটেছে।

১৬ জুলাই অষ্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া (১৫) ছাত্রীটিকে ধর্ষণের অভিযোগে, মহম্মদপুর থানায় ‘মামলা’ করেছে মেয়েটির পরিবার। মামলায় মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল ‘পলিতা ইউনিয়নের’ ভাঙ্গুড়া গ্রামের শহিদুলের ছেলে শাহাবুল ইসলামকে (১৯) আসামি করা হয়েছে। ‘মামলার’ পর কলেজ ছাত্র শাহাবুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ ও মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাহাবুলের সঙ্গে মেয়েটির ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ৮ জুলাই মোহাম্মদ পুর উপজেলা ‘আওয়ামী লীগের’ সাধারণ সম্পাদক ও ‘নহাটা ইউনিয়নের’ সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা সিদ্দিকির কাছে যান ওই মেয়েটির চাচা। দুইদিন পর (১০ জুলাই) মেয়েটির বাড়ির পাশে একটি জায়গায় ‘সালিস’ বসানো হয়।

মোস্তফা সিদ্দিকির ওরফে লিটনের নেতৃত্বে ওই সালিসে শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সালিসে বিয়ের আগে “অন্তঃসত্ত্বা” হওয়ার অভিযোগে মেয়েটির পরিবারকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ‘জরিমানা’ করে টাকা পরিশোধের জন্য; দশ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, ছয় মাসের জন্য পরিবারটিকে ‘সমাজচ্যুত’ করেন সালিসকারীরা। সেই সঙ্গে পরিবারটিকে হুমকিও দেওয়া হয়, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে না যাওয়ার জন্য।

পুলিশ ও ‘ভুক্তভোগী’ পরিবারের লোকেরা জানান, ওই সালিসে দাবি করা কথিত জরিমানার টাকা মেয়েটির পরিবার দিতে ব্যর্থ হওয়ায়, নেতারা বাড়িতে চড়াও হন। নহাটা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য, ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েক জন গতকাল সকালে ‘ভুক্তভোগীদের’ বাড়িতে যায়। তাঁরা বাড়ি থেকে ১ টি গরু, ৪ টি ছাগল, ১টি সাইকেল, ১ টি ভ্যান, শ্যালো মেশিনসহ বেশ কিছু জিনিস ছিনিয়ে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ছিনিয়ে নেওয়া অধিকাংশ মালামাল পুলিশ উদ্ধার করে।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারক বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় পরিবারটি একটি মামলা করেছে। ওই মামলায় আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তফা সিদ্দিকী এবং ওবায়দুর রহমানসহ ষোল জনকে আসামি করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ‘মোস্তফা সিদ্দিকি’ ও তাঁর সহযোগী ওবায়দুর রহমান; নিজেদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মোস্তফা সিদ্দিকি মুঠোফোনে বলেন, “এ ধরনের কোনো সালিসে আমি উপস্থিত ছিলাম না, আর চাঁদা দাবির প্রশ্নই ওঠে না, উল্টো আমি তাদের সব ধরনের ‘সহযোগিতার’ আশ্বাস দিয়েছি। মাগুরা, খুলনা।

আপনার মতামত লিখুন :