ক্ষমতায় চিরকাল থাকা যায় না, কখন কি ঘটে তাও বলা যায় নাঃ- ওবায়দুল কাদের

Yousuf AsrafYousuf Asraf
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:২০ AM, ২৮ অগাস্ট ২০২০
ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চিরকাল কেউ ক্ষমতায় থাকে না এবং বাংলাদেশে কখন কী ঘটে তা বলা যায় না। এ জন্য তিনি তাঁর দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন ক্ষমতার
দাপট না দেখানোর জন্য।

গত ২৭ আগষ্ট বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনাসভায় তিনি সরকারি বাসভবন থেকে সংযুক্ত হন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যাঁরা দল করেন তাঁরা মনে রাখবেন, দলে যদি ঐক্যকে গুরুত্ব না দেন, নিজেদের মধ্যে কলহ-কোন্দল থাকে তাহলে দুঃসময়ে প্রতিপক্ষ কোন্দলের ওপর আঘাত হানবে। এ দেশে কখন কী ঘটে, বলা যায় না। চিরজীবন আমরা ক্ষমতায় থাকব—এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাবেন না, আমরাও ভাবি না। চিরকাল কেউ ক্ষমতায় থাকে না।

চোখের পলকে বাংলাদেশে ১৫ আগস্ট ঘটে গেছে। হঠাৎ করে ২১ আগস্ট। ক্ষমতায় থেকে যে যেখানে আছেন, ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। যখন ক্ষমতায় থাকবেন না প্রতিপক্ষ প্রতিশোধ নেবে।’

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, ‘হত্যা হত্যাকে ডেকে আনে। জিয়াউর রহমান যদি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না থাকতেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতেন, তাহলে আরেকটি খুনিচক্র জিয়াউর রহমানকে হত্যা করতে পারত না বলে আমার বিশ্বাস।’

তিনি বলেন, ‘যে বুলেট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে এতিম করেছে, সেই বুলেট খালেদা জিয়াকে বিধবা করেছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের যে পুরস্কৃত করেন, হত্যার বিচার হবে না—এই ইনডেমনিটি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করেন তাঁকে বলে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা! তারপর আবার ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা।’

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যাঁরা বিচারবহির্ভূত হত্যার কথা বলেন, তাঁরা যেন নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখে নেন।’

দেশে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে হারে সংক্রমণের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞরা করেছিলেন, সেই হারে সংক্রমণ হয়নি। তার পরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে শৈথিল্য না দেখিয়ে আরো সতর্ক হতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতে জনবল বাড়ানো হয়েছে, জনবল আরো দরকার। আমাদের করোনা সুরক্ষাসামগ্রী আরো দরকার। কিছু কিছু বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপতালে শিক্ষা ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেবার ব্রত নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে।’

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বিএসএমএমইউ শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আবু নাসের রিজভীর সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এবং স্বাচিপের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সলান, সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ আজিজ ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :